Summary
ব্যবসায়ের সংজ্ঞা ও বৈধতার গুরুত্ব:
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে কোনো বৈধ অর্থনৈতিক কাজকে ব্যবসায় বলা হয়। বৈধতার প্রশ্নটি আইনের সাথে সম্পর্কিত, যেখানে যে সকল ব্যবসায়কে অবৈধ বলা হয়নি, তা বৈধ ব্যবসায় হিসেবে গণ্য হয়।
অবৈধ ব্যবসায় ও আইনি বিধি:
তিন বন্ধু চোরাচালানে অংশীদারি চুক্তি করে ব্যবসা শুরু করলেও আইনগতভাবে তা বৈধ নয়, সুতরাং এটি ব্যবসা নয়। ব্যবসা করতে হলে আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
- কোম্পানি গঠনে নিবন্ধন প্রয়োজন।
- ব্যাংক ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান জনগণ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারে না।
- সমবায় সমিতি লাভ দেখিয়ে জনগণ থেকে অমান্য আমানত সংগ্রহ করলে তা বৈধ নয়।
আইনের আওতায় উদাহরণ:
ডেসটিনি ও যুবক প্রতিষ্ঠান বৈধ কার্যক্রম পরিচালনা না করায় সরকার বন্ধ করেছে। ব্যবসায় চালাতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ এবং মান সংক্রান্ত সনদের জন্য BSTI-এর অনুমোদন প্রয়োজন।
স্বত্বের রক্ষা:
নকল বই প্রকাশ করা আইনগতভাবে অবৈধ। ব্র্যান্ড নাম নিবন্ধন থাকার কারণে অন্য কেউ একই নাম ব্যবহার করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিলিভারের 'লাক্স' ব্র্যান্ডের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা রক্ষা করা হয়।
নৈতিক ব্যবসা এবং আইন:
গার্মেন্টস শিল্পে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না। পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য আইন মেনে চলতে হয় এবং ভেজাল পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ। এভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আইনগতভাবে পরিচালনা করতে হলে বিভিন্ন আইন মেনে চলার প্রয়োজন।
সুতরাং, ব্যবসায়ের আইনগত দিক সম্পর্কে জানা ও মানা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে কোনো বৈধ অর্থনৈতিক কাজকে ব্যবসায় বলে । এই বৈধতার প্রশ্নটি আইনের সাথে সম্পর্কিত । আইনে যে সকল ব্যবসায়কে বা ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যকে অবৈধ বলা হয়নি তাই বৈধ ব্যবসায় হিসেবে গণ্য । তিন বন্ধু অংশীদারি চুক্তি করে চোরাচালানির ব্যবসায়ে নেমে পড়লো। এতে ব্যবসায়ের সকল বৈশিষ্ট্য বর্তমান থাকলেও আইনগতভাগে উক্ত কাজ বৈধ না হওয়ায় তা ব্যবসায় নয়। এভাবেই ব্যবসায় করতে হলে আইনে বিভিন্ন বিধি-বিধান মেনে চলার বাধ্য-বাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোম্পানি গঠন করতে হলে নিবন্ধন নিতে হয় । ব্যাংক ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান সদস্য ভিন্ন জনগণ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারে না- এগুলো আইনের বিধান। এখন যদি কোনো সমবায় সমিতি অধিক লাভ দেখিয়ে জনগণ থেকে আমানত সংগ্ৰহ করে তবে তা আইনগতভাবে বৈধ না হওয়ায় বৈধ ব্যবসায় হতে পারে না । ডেসটিনি, যুবক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বৈধ কার্যক্রম পরিচালনা না করায় তা সরকার বন্ধ করে দিয়েছে এবং এ সকল প্রতিষ্ঠান জনগণের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে । বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায় চালাতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় । নির্ধারিত মান অনুসৃত হবে এটা নিশ্চিত করার শর্তে মান বিষয়ক সনদে বাংলাদেশে BSTI-এর অনুমোদন লাগে। একজন একটা বই লিখলো । আরেকজন উক্ত বই হুবুহু নকল করে ছাপিয়ে বাজারে বাজারজাত করলো । এটা আইনের পরিপন্থি। লেখকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনের বিধান রয়েছে । ইউনিলিভার ‘লাক্স' ব্রান্ড নামে বাজারে গায়ে মাখা সাবান বাজারজাত করে । আরেকজনও লাক্স নামে বাজারে সাবান বাজারজাত শুরু করলো । এক্ষেত্রে Lux ব্রান্ড নাম নিবন্ধিত করা থাকলে অন্যে তা ব্যবহার করতে পারবে না । যেই প্রতিষ্ঠান তার প্রয়াস-প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে গ্রান্ড নাম, লোগো ইত্যাদি জনপ্রিয় করেছে, তাদের পরিচিতির বাহন হিসেবে এগুলো তুলে ধরেছে তাদের সেই স্বার্থ সংরক্ষণে আইন রয়েছে । Bata একটা ব্রান্ড নাম। এখন একইভাবে মানুষকে প্রতারিত করার জন্য Bala, Beda, Rata ইত্যাদি নাম ব্যবহার করা হয় যা অন্যায় । গার্মেন্টস শিল্পে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না এটা মেনেই এ ব্যবসায় চালাতে হয়। ইট ভাটা করতে হলে অধিক পরিবেশ দূষণ করে এমন চিমনি ব্যবহার করা যাবে না, শিল্প বর্জ্য শোধন করতে হবে, ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা যাবে না- এ সকল নানান বিষয়ে বিভিন্ন আইন দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রবর্তন ও প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ বৈধতার সাথে ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন আইন মেনে চলা প্রয়োজন । এ সকল আইন মিলিয়ে ব্যবসায়ের যে আইনগত দিক ফুটে ওঠে তাকেই ব্যবসায়ের আইনগত দিক বলে । তাই এ সম্পর্কে জানা ও মানা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর জন্য অবশ্য করণীয় ।
Read more